গামেদি চিন্তার মৌলিক বিভ্রান্তি । মূল: মাওলানা ইয়াহইয়া নোমানি
গামেদি চিন্তার মৌলিক বিভ্রান্তি
মূল: মাওলানা ইয়াহইয়া নোমানি
তরজমা: হুজাইফা মাহমুদ
বিগত প্রায় বিশ বছর যাবত জনাব জাভেদ আহমেদ গামেদি সাহেবের চিন্তা ও লেখালিখির চর্চা হয়ে আসছে বিভিন্ন মাধ্যমে। আমি সেই সময় থেকে তার এসব চিন্তা ও লেখালেখির সাথে গভীরভাবে পরিচিত , যখন হিন্দুস্তানের খুব কম মানুষই তাকে চিনতো। তার সেসব লেখা আল ইশরাক্ব, আল ফুরকান নামক পত্রিকাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ছাপা হতো । ১৯৯১ সাল থেকে নিয়ে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমি সেগুলো নিয়মিত পাঠ করেছি। গামেদি সাহেব নিজেকে মরহুম আমিন আহসান ইসলাহির সাথে সম্বন্ধিত করতেন। তার লেখা পড়ে আমার মনে হতো জনাব ইসলাহী সাহেব রজমের শাস্তির ব্যাপারে যেই দুঃসাহসিকতাপূর্ণ, বিপদজনক ও বিচ্ছিন্ন মতামত পেশ করেছেন ঠিক সেখান থেকে গামেদি সাহেব তার চিন্তার যাত্রা শুরু করেছেন।
তারপর এলো অবাধ ইন্টারনেটের যুগ। তার চিন্তা ও লেখালেখির পরিসর আরও বৃদ্ধি পেলো। এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার ব্যাপারে নানাবিধ প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা আসতে লাগলো আমাদের কাছে। এও শোনা যায় , তার লেকচারে আমাদের অনেক মানুষ বেশ ভালোভাবেই প্রভাবিত হয়ে পড়ছেন।
পশ্চিমা সাংস্কৃতির বৈশ্বিক বিস্তার ও এর প্রবল প্রভাবের কারণে মুসলমানদের মধ্য থেকেই এমন একটা দল তৈরী হয়েছে যারা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের আশপাশের ঐতিহ্যবাদী আলেম উলামাদের সাথে মানসিক দূরত্ত্ব ও বিচ্ছিন্নতা অনুভব করেন। এই শ্রেণীর লোকেরাই যেকোন বাতিলপন্থী চিন্তা ও মতবাদের আহ্বানে সবার আগে সাড়া দেন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে গামেদি সাহেবের এই ফাঁদেও তারাই আটকা পড়েছেন।
আমাদের কল্পনার চাইতেও দ্রুত বেগে তার এসব বিভ্রান্ত ছড়িয়ে পড়েছে সকলের মাঝে। অদ্য ১৩ই এপ্রিল , ২০১৯ তারিখে খবর পেলাম গামেদি সাহেবের প্রতিষ্ঠান “ আল মাওরিদ” এর ভারতীয় শাখা খুলা হয়েছে। সেখান থেকে তার যাবতীয় কিতাবপত্র , লেকচার ও লিফলেটের প্রচার প্রসার করা হচ্ছে। তখন আমি নিজের ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে তার চিন্তার মৌলিক ভুল ও ভ্রান্তিগুলো নিয়ে সুস্পষ্ট আলোচনা করার ইচ্ছা করলাম। যেনো তার শ্রোতা ও পাঠকেরা জানতে পারে তার চিন্তার মৌলিক ত্রুটিগুলো কী এবং কেন সেগুলো দ্বীনের বিশুদ্ধ আক্বীদার সাথে সাংঘর্ষপূর্ণ।
জনাব গামেদি সাহেবের এই বিভ্রান্তি এবং আহলে সুন্নাহর সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি মামুলি ছোটখাটো কোন বিচ্যুতি না। নিতান্ত আফসোসের বিষয় হলো তিনি নবুওয়ত ও রিসালাতের মাক্বাম বুঝতে ব্যার্থ হয়েছেন। তার মতে , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই যোগ্যতাই নাই যে আল্লাহ্ ( কুরআন ব্যাতিত) তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের কোন আক্বীদাহ , আমল বা কোন আদেশ নিষেধ প্রণয়ন করবেন। তিনি রিসালাতের এই মাক্বাম বা দায়িত্ত্বের স্বিকৃতী দিতে রাজী নন। তার মতে মক্কার মুশরিকদের মাঝে , কিংবা মদীনার ইহুদি খৃষ্টানদের যেসব ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ প্রচলিত ছিলো সেগুলোকে সংস্কার ও সংশোধনের মাধ্যমে কোনটাকে বাদ দেয়া ও কোনটাকে জারি রাখার অধিকার তাঁর ছিলো। কিন্তু মুমিনদের জন্য স্বতন্ত্র নতুন কোন বিধান প্রনয়ণ করা এবং একে দ্বীনের কোন অংশ হিসেবে যুক্ত করার অধিকার তাঁর ছিলো না।
তার এই বক্তব্যের মূল কথা হলো হাদিসের মাধ্যমে দ্বীনের কোন বিধান প্রনয়ণ করা যাবেনা। অর্থাত তিনি সুস্পষ্টভাবেই মুনকিরে হাদিস বা হাদিসের প্রামাণ্যতা অস্বীকারকারী। তবে হাদিস অস্বীকারের যেসব প্রচলিত ধরন রয়েছে সেগুলো থেকে তার অস্বীকারের ধরন কিছুটা আলাদা এবং মানের বিচারে নিম্ন পর্যায়ের। তার চিন্তা ও মতবাদের সবচে নির্ভরযোগ্য ও মৌলিক গ্রন্থ সম্ভবত “ মিযান” গ্রন্থটি। সেখানে তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দ্ব্যার্থহীন ভাষায় বলেছেন , হাদিস দ্বীন ও শরিয়ার কোন উৎস হতে পারেনা। তিনি বলেন- রাসূল সাঃ এর কথা , কাজ , কিংবা অন্যদের কাজের ব্যাপারে তাঁর নিরব সম্মতি ও অসম্মতি প্রদানের যেসব বর্ণনা পাওয়া যায় , এবং যেগুলোর অধিকাংশই খবরে ওয়াহেদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে , পারিভাষিক অর্থে যাকে হাদিস বলা হয় , সেগুলোর ব্যাপারে এ কথাটি একেবারেই সুস্পষ্ট যে , এর মাধ্যমে দ্বীনের কোন আক্বীদা বা আমল বৃদ্ধি করা যাবেনা। “
তো তার এই বক্তব্যের এমন কোন ব্যাখ্যা বা অর্থ বের করার কি সুযোগ রয়েছে যার মাধ্যমে বলা যায় তিনি মুনকিরে হাদিস নন? আরও দেখুন , এই কথার অব্যবহিত পরেই তিনি লিখেন- এই বিষয়ে আলোচনার ভূমিকাতেই আমি অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছি যে , দ্বীনের নতুন কোন বিধানের উৎস হওয়া হাদিসের দায়িত্বের মাঝেই পড়েনা। ( মিযান , পৃঃ ৬১)
তারপরও কি কোন সন্দেহ বাকি থাকে?
অবশ্য এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় । উপরোক্ত বক্তব্যে তিনি হাদিসের অধিকাংশ বর্ণণা কে খবরে ওয়াহেদ হিসেবে আখ্যায়িত করে এটা বুঝানোর চেষ্টা করছেন যে , হাদিসকে দ্বীনের প্রমাণ হিসেবে না মানার সবচে বড় কারণ হলো সেগুলোর খবরে ওয়াহেদ হওয়া। এর দ্বারা সাধারণ মুসলমানদের মাঝে তার এই অবস্থানের বিচ্ছিন্নতা ও বিচ্যুতির বিষয়টা কম দৃষ্টিগোচর হবে বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবতা এরকম না। তিনি স্রেফ খবরে ওয়াহেদ হওয়ার কারনে হাদিসের প্রামাণ্যতা অস্বীকার করেন না , বরং যেসব হাদিস মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে , সেগুলোর ব্যাপারেও একই অবস্থান গ্রহণ করেন। অর্থাত মুতাওয়াতির হাদিসের মাধ্যমেও দ্বীনের কোন বিধান বা আক্বীদা গ্রহণ করা যাবেনা। তার বক্তব্যের এই জায়গাটা লক্ষ্য করুন – হাদিসের সেই যোগ্যতাই নেই যে এটা নতুন কোন আকীদা বা আমলের উৎস হবে।
এখানে তিনি খবরে ওয়াহেদ ও মুতাওয়াতির নির্বিশেষে সবধরণের হাদিসকেই খারিজ করে দিয়েছেন। এখানে গামেদি সাহেবের মতবাদের আরেকটি মূলনীতি জেনে নেয়া জরুরী, যার মাধ্যমে আমরা তার উপরে বলে আসা “ আকীদা ও আমল বৃদ্ধি করা যাবেনা” এবং “ দ্বীনের নতুন কোন বিধানের উৎস হতে পারেনা” এই কথাগুলোর ব্যাপারে আরও স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট ধারনা লাভ করতে পারবো। তিনি তার বিখ্যাত মিযান গ্রন্থে বলেন- দ্বীন আমাদের কাছে দুটি মাধ্যমে পৌঁছেছে –
১- কুরআন
২- সুন্নাহ
পাঠক, এতটুক দেখেই তার ব্যাপারে আস্বস্ত হয়ে যাবেন না। সাহাবায়ে কেরাম থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত মুসলমানগণ সুন্নত বলতে যা বুঝেছে এবং সুন্নত শব্দটি শুনার সাথে সাথেই তাদের মনে রাসূল সাঃ এর পবিত্র সত্ত্বার সাথে সম্পৃক্ত হাদিস ও আমলের যে কল্পচিত্র আসে গামেদি সাহেবের কাছে সেগুলো সুন্নত না। তার কাছে সুন্নতের ভিন্ন অর্থ রয়েছে । তিনি বলেন-
সুন্নত বলতে আমরা বুঝি , দ্বীনে ইব্রাহীমের সেইসব ধর্মীয় আচার প্রথা যেগুলো আরবের মুশরিক, ইহুদি ও খৃষ্টানদের মাঝে প্রচলিত ছিলো । রাসূল সাঃ সেগুলো কে সংস্কার , সংশোধন ও যোগ বিয়োগের পর নিজের অনুসারিদের জন্য পালনিয় বিষয় হিসেবে জারি রাখেন। একেই সুন্নাহ হিসেবে আখায়িত করা হয়। ( মিযান, পৃঃ ১৪)
সুন্নাহর এমন অর্থ কে সামনে রেখেই গামেদি সাহেব বলেন, বিশুদ্ধ ও নিঃসন্দেহ দ্বীনের উৎস এই দুটি , কুরান এবং সুন্নাহ। এর বাইরে আর কোন কিছু দ্বীন নয়, এবং দ্বীনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতও নয়। রাসূল সাঃ এর যেসব বক্তব্য ও কাজের বিবরণ হাদিস হিসেবে আমাদের মাঝে প্রচলিত রয়েছে , যার সবটাই খবরে ওয়াহেদ সূত্রে বর্ণিত , সেগুলোর ব্যাপারে নিরেট বাস্তবতা হলো রাসূল সাঃ নিজ এসবের প্রতি কোন গুরুত্ত্ব প্রদান করেননি। এগুলোর সংরক্ষণ ও প্রচারের ব্যাপারে কাউকে আদেশও দেননি। বরং সেইসময়ের মানুষের ইচ্ছার উপর ছেরে দিয়েছেন , তারা চাইলে পরবর্তীদের পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে আবার নাও পৌঁছাতে পারে। সুতরাং এমন বিষয় দিয়ে দ্বীনের কোন আক্বীদা বা আমল প্রমাণ করা যায়না। ( মিযান, পৃঃ১৫)
আমরা পূর্বেই বলেছি, গামেদি সাহেবের মূল বিভ্রান্তি হলো ইনকারে হাদিস বাঁ হাদিসের প্রামাণ্যতা অস্বীকার করা। এক্ষেত্রে তিনি এক নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। আমার আশ্চর্য লাগে , তার এসব বিভ্রান্তিমূলক চিন্তার খন্ডনে যেই সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট খন্ডন জনমানুষের সামনে আসা প্রয়োজন ছিলো সেভাবে আসেনি। তার লেখা ও বক্তব্যের বিষয়গুলো নিয়ে পাকিস্তানের জ্ঞানী মহলে আলোচনা জারি আছে বটে , কিন্তু তারা এতো লম্বা চওড়া ও ঘুরানো প্যাঁচানো আলোচনা করেছেন যে এর দ্বারা মূল উদ্দেশ্যই হাসিল হয়নি। এই সুদীর্ঘ আলোচনার কোন প্রয়োজন ছিলো না। বরং তার চিন্তার মূল পয়েন্ট ধরে সেটাকে খন্ডন করাই যথেষ্ট ছিলো।
তিনি হাদিস কে দ্বীনের বহির্ভূত অংশ বলেই থেমে থাকেননি, বরং এর প্রায়োগিক ক্ষেত্রগুলোও দেখিয়েছেন। তার মতে, রাসুল সাঃ এর যেসব কাজ , কথা , বিধান, এবং তাঁর বর্ণিত ঘটনাবলী কিংবা পরকাল বিষয়ক সংবাদ, যেগুলোর উল্ল্যেখ কুরআনে পাওয়া যায়না, এবং পূর্ববর্তী দ্বীনে ইব্রাহীমেও এর কোন চর্চা নাই , এমন বিষয় কে তিনি দ্বীন ও শরিয়তের অংশ হিসেবে মানতে পরিষ্কার ভাষায় অস্বীকার করেন।
তিনি দ্বীন ও শরিয়াহ কে যেভাবে চিত্রায়িত করেছেন এর ফলাফল দাড়ায় যে , তিনি সেইসব আক্বীদা কেও অস্বীকার যেগুলো খবরে মুতাওয়াতির দ্বারা প্রমাণিত। কোন মানুষ যদি মুতওয়াতির হাদিস দ্বারা প্রমাণিত কোন বিষয় কে অস্বীকার করে তাহলে আবশ্যিকভাবেই সে এমন বিষয় কে অস্বীকার করছে যা রাসূল সাঃ এর কথা বা কাজ হওয়ার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহেরও অবকাশ নাই। মুতাওয়াতির হাদিস এমন হাদিস কে বলে যা অকাট্যভাবে রাসূল সাঃ থেকে প্রমাণিত।
এর কারণ হলো গামেদি সাহেব মনে করেন, সুন্নাহ হলো পূর্ববর্তী দ্বীনে ইব্রাহীমের পালনীয় রীতিনীতি , যা রাসূল সাঃও তাঁর উম্মতের জন্য জারি রেখেছেন , এর সীমা স্রেফ আমল পর্যন্ত। এই সুন্নাহ দিয়ে ইসলামের কোন আক্বিদা গ্রহন করা যাবেনা। ( মিযান,৫৮)
তো এ থেকে বুঝাই যাচ্ছে, তার কথিত এই সুন্নাহ ব্যাতিত আর কোন সুন্নাহ কে তিনি দ্বীনের অংশ মনে করেন না। চাই সেটা খবরে ওয়াহেদ হোক কিংবা মুতাওয়াতির হোক। সুতরাং রাসূল সাঃ জান্নাত , জাহান্নাম, আখেরাত , কিয়ামত, শেষ যামানা, জ্বীন , ফেরেশতা, সহ আরও যেসকল গায়েবের বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন , সেগুলো মুতাওয়াতির কিংবা মাশহুর যেভাবেই বর্ণিত হোক , তার মতে দ্বীন ও শরিয়তে এর কোন ভিত্তি নাই।
পাঠক , একটু চিন্তা করে দেখুন তার এই বক্তব্যের অর্থ কী দাঁড়ায়? রাসূল সাঃ তাঁর সারাজীবনে সাহাবীদের কাছে যেসব কথা বলেছেন , মজলিসে বসিয়ে শিখিয়েছেন , এবং চারদিকে প্রচার করেছেন, ইলমুল গায়েব বা অদৃশ্য জগতের ব্যাপারে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন সেগুলো কি তাহলে অনর্থক ও উদ্দেশ্যহীন কথাবার্তা ছিলো?
তার এই পর্যায়ের খোল্লামখোল্লা গুমরাহি ও দ্বীনের ব্যাপারে নিরেট মূর্খতার পরেও পাকিস্তানের কতিপয় বড় আলেম উলামা তার আলোচনায় যেসব উচ্চমার্গীয় বক্তব্য ও দার্শনিক আলাপ করেছেন , সেটা দেখে আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি। তারা এসব উচ্চমার্গীয় আলোচনা করে গামেদি সাহেব কে একজন বিশিষ্ট চিন্তক ও গবেষকের মর্যাদা দিয়ে বসে আছেন। অথচ তিনি মোটেও এমন কেউ নন। অযৌক্তিক ও খাপছাড়া চিন্তার কোন মানুষের বক্তব্য খন্ডনে এই পর্যায়ের ইলমি আলাপ মানানসই না।
লক্ষ্য করুন, উদাহরণস্বরূপ যেসব হাদিসে রাসূল সাঃ পুল সিরাত কিংবা ঈসা মসীহ আঃ এর পূনরাগমণের সংবাদ দিয়েছেন, গামেদী সাহেবের মূলনীতি অনুযায়ি এগুলো বিশ্বাস করা ভুল। এসব বিষয় দ্বীনের কোন আক্বীদা হতে পারেনা। যেহেতু দ্বীনের কোন আমল বা আক্বীদা যুক্ত করার ক্ষমতাই হাদিসের নেই। অথচ , একথা সকলেই জানে যে, এই বিষয়গুলো রাসূল সাঃ থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়ে আসছে। অর্থাৎ , সাহাবায়ে কেরাম থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত প্রত্যেক যুগে এই বিষয়গুলো এতো পরিমান মানুষ বর্ণনা করেছে যে, এগুলো মিথ্যা বা ভুল হওয়া হওয়া যৌক্তিকভাবে সম্ভব না। রাসূল সাঃ এই কথাগুলো বলেছেন এটা দিবালোকের ন্যায় সুনিশ্চিত। এমন বিষয় কে উলামাগণ “ যরুরিয়াতে দ্বীন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ , এমন বিষয় যা সকলের কাছে আবশ্যক জ্ঞান হিসেবে উপলব্ধ থাকে। যা দ্বীনের অংশ হওয়ার ব্যাপারে কারও মনে কোন সন্দেহ নাই।
পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল উলামার মাঝে এ ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে যে, এইসব যরুরিয়াত দ্বীনের কোন একটা কে কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। ইলমে কালাম ও উসুলে ফিকহের কিতাবাদিতে এ বিষয়টি সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহঃ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “ ইকফারুল মুলহিদীন” এ যুক্তি ও প্রমাণের আলোকে এই বিষয়টি একেবারে খোলাসা করে দিয়েছেন। সেখানে তিনি অসংখ্য উলামা , ইমাম ও মুজতাহিদের এব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্যগুলোকে সংকলিত করেছেন।
মুতাওয়াতির হাদিস বর্ণনার যে পদ্ধতী আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি , এই পদ্ধতীতে একটি হাদিস বর্ণিত হয়ে আসার পরেও কেউ যদি তা অস্বীকার করে তাহলে সে যেনো খোদ রাসূল সাঃ কেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো , এবং রাসূলের সাঃ কথা কে ভুল হিসাবে আখ্যায়িত করলো।
গামেদি সাহেব নিজের মূলনীতির ভিত্তিতেই ঈসা আঃ এর জীবিত থাকা এবং পূনরাগমণের ব্যাপারটি অস্বীকার করেন। তার মতে ঈসা আঃ এর মৃত্যু হয়ে গেছে। তিনি এখন জীবিত নন , এবং কিয়ামতের পূর্বে পূনরাগমণও করবেন না।
যদিও রাসূল সাঃ হযরত ঈসা আঃ এর জীবিত থাকা ও কিয়ামতের পূর্বের পূণরাগমণ সম্পর্কে সুনিশ্চিত সংবাদ প্রদান করেছেন। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ ও বিটর্ক করার সুযোগ নাই। সেইসব সংবাদের বর্ণনা তাওয়াতুর সূত্রে আমাদের পর্যন্ত বর্ণিত হয়ে এসেছে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ভুল বা মিথ্যা হওয়ার সামান্য সম্ভাবনাও নাই।
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহঃ তার বিখ্যাত কিতাব “ আত তাসরীহ বিমা তাওাতারা ফি নুযুলিল মাসীহ” এ এ সংক্রান্ত সকল বর্ণনা একত্রিত করেছেন। সেখানে বর্ণনার আধিক্য ও সনদের নির্ভরযোগ্যতা কে সামনে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, রাসূল সাঃ যে এসব সংবাদ দিয়েছেন, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু গামেদি সাহেবের মতে এগুলো দ্বীনের কোন অংশ হতে পারেনা, দ্বীনের সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। ঈসা আঃ এর পূনরাগমনের বিশ্বাস রাখা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ( মিযান, পৃঃ ১৭৮-১৮০)
আক্বীদার মতো দ্বীনের অন্যান্য আহকাম ও বিধানাবলির ব্যাপারেও গামেদি সাহেব একই মূলনীতি অবলম্বন করেন। অর্থাত কোন বিধান যদি কুরআন ও পূর্ববর্তী দ্বীনে ইব্রাহীমে না থাকে তাহলে স্রেফ রাসূল সাঃ এর হাদিস দ্বারা এই বিধান প্রণয়ন করা যাবেনা। রাসূল সাঃ এর নিজ থেকে দেয়া আদেশ ও নিষেধাজ্ঞার কোন ধর্তব্য হবেনা শরিয়তে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নাই। দ্বীন ও শরিয়াকে যেসব মূলনীতির উপর তিনি দাঁড় করিয়েছেন সেটা কে সামনে রেখে দুয়েকটি উদাহরণ দিলেই ব্যাপারটি সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে যাবে।
তার প্রধান মূলনীতি হলো – যেসব বিধান কুরআন ও পূর্ববর্তী দ্বীনে ইব্রাহীমের চর্চায় পাওয়া যায়না , সেসব বিধান দ্বীনে ইসলামেরও অংশ না। এই মূলনীতির আলোকে দেখা যায় শরিয়তের অধিকাংশ ফরজ, ওয়াজিব ,সুন্নত কিংবা হালাল হারামের বিধানই খারিজ হয়ে যায়। যেমন, স্বর্ণের থালা বা পিয়ালা ব্যাবহার করা হারাম। একইভাবে পুরুষদের জন্য স্বর্ণের অলংকার ও রেশমের কাপড় পরিধান করা হারাম। অথবা মহিলাদের মাসিকের সময় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ , এবং পরবর্তীতে এই নামাজ আদায় করা মওকুফ। নামাজের ভেতর কথা বললে নামাজ ভেঙ্গে যায় , ইত্যাদি। এরকম আরও কতশত সর্বস্বীকৃত বিধান রয়েছে যেগুলো না কুরআনে উল্লেখ আছে না তার কথিত দ্বীনে ইব্রাহীমে এর কোন রেওয়াজ আছে। রাসূল সাঃ এর আগমনের পূর্বে এসব বিধান কেউ জানতইনা। গামেদি সাহেবের মূলনীতি অনুযায়ি এগুলো দ্বীনের কোন বিধান না, বরং দ্বীন বহির্ভূত বিষয়। তার মূলনীতি ও চিন্তার ফলাফলতো এই দাঁড়ায়।
আমরা পূর্বেই দেখিয়েছি তাঁর কিতাব থেকে , তিনি হাদিসে বর্ণিত রাসূল সাঃ এর দেয়া কোন বিধান তখনই কবুল করেন যখন সেটা পূর্ববর্তী দ্বীনে ইব্রাহীমে পাওয়া যায় , এবং আরবের মুশরিক ও ইহুদি নাসারাদের মাঝে এর চর্চা থাকে। কুরআনের বাইরে হালাল ও হারাম নির্নয়ের মানদন্ড তার কাছে এটাই। এজন্য তার চিন্তার ভিত্তিমূলক গ্রন্থ “ মিযান” এ তিনি যখন হাদিস থেকে কোন বিধান আলোচনা করেন তখন হাদিস উল্লেখের পাশাপাশি একথাও আবশ্যিকভাবেই উল্ললেখ করেন যে, বাইবেলে এর মূল উৎস রয়েছে , অথবা ইসলাম পূর্ব জাহেলী যুগে এর চর্চা ছিলো। যেমন, মিসওয়াক করা রাসূল সাঃ এর অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি সুন্নত। রাসূল সাঃ থেকে এই আমলের ব্যাপারে তাওয়াতুর সূত্রে বর্ণিত হাদিস রয়েছে। সুতরাং এটা দ্বীনের গুরুত্ত্বপূর্ণ অংশ এতে কোন সন্দেহ নাই।
গামেদি সাহেবও একে দ্বীনের অংশ ও একে সওয়াবযোগ্য আমল হিসেবে স্বিকার করে নিয়েছেন। কিন্তু কেন ? এই জন্য যে, জাওয়াদ আলী তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “ আল মুফাসসাল ফি তারিখিল আরাবি ক্বাবলাল ইসলাম” এ তিনি বলেছেন মিসওয়াক করার আমলটি জাহেলি যুগেও বিদ্যমান ছিলো । ( মিযান-৬৪১)
ব্যাপারটা একবার চিন্তা করে দেখুনতো। আল্লাহ্ তাঁর রাসূল সাঃ কে আমাদের দ্বীনের বাহক বানিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি মানবজাতীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক । আমাদের পথ প্রদর্শক। অথচ তাঁর কোন আমল কে দ্বীনের বিধান হিসেবে গ্রহন করার জন্য আমাদের কে দেখতে আবু জাহেল আবু লাহাব কিংবা উতবা শায়বারা এই আমল করতো কি না। অর্থাৎ, রাসূলের সাঃ আমল কে দ্বীন হিসেবে গ্রহনের জন্য তাদের কাছে থেকে সত্যায়ন পত্র পেতে হবে।
যে লোক কুরবানী করার ইচ্ছা করে সে যেনো যিল হজ্জ মাসের প্রথম তারিখ থেকে দশ তারিখ কুরবানি করার আগ পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে। এটি একটি সুন্নৎ আমল। মুসলিম শরিফ সহ আরও বিভিন্ন কিতাবে বিশুদ্ধ সনদে বর্নিত হইয়েছে হাদিসটি। গামেদি সাহেব তার কিতাব “ মিযান” এ এই আমল কে দ্বীনের অংশ হিসেবে স্বিকৃতী দিয়েছেন। এটাকে তিনিও সুন্নত আমল বলেছেন । পরবর্তীতে তার কাছে কেউ জানতে চাইলো , আপনি কিভাবে একে সুন্নত হিসেবে স্বিকৃতী দিলেন। অথচ আপনার উসূল অনুযায়িতো এটা সুন্নত হওয়ার কথা না। কারণ এটা হাদিস স্রেফ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। কুরআনেও নাই , আবার দ্বীনে ইব্রাহীমের মাঝেও এর চর্চা আমরা দেখি না।
এর জবাবে তিনি বিস্তারিত এক প্রবন্ধ লেখেন। রিসালাহর ২০১৮ সাল সংখ্যায়। সেখানে তিনি অনেকগুলো রেফারেন্স ও সূত্রের সাহায্যে দেখিয়েছেন , এই আমলটির উল্লেখ বাইবেলে পাওয়া যায়, এবং জাহেলি যুগের আরবদের মাঝেও এর চর্চা ছিলো। ঠিক সেকারণেই তিনি এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো কে দ্বীনে ইসলামের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছেন।
কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, গামেদি সাহেব তার এই উসূল বা মূলনীতি সবখানে বজায়ে রাখেন না। দ্বীনের এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো কুরআনে উল্লেখিত হয়নি , আবার দ্বীনে ইব্রাহীমেও এর চর্চা নাই , স্রেফ হাদিস ও রাসূল সাঃ এর আমলের মাধ্যমে প্রমাণীত, গামেদি সাহেব সেগুলোকেও মানেন। যেমন দুই ঈদ পালন করা। দুই ঈদকে তিনি দ্বীনের অংশ হিসেবে মানেন। কেউ যেনো তাকে জিজ্ঞেস করে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার কথা কি কুরআনে এসেছে, কিংবা জাহেলী যুগে কি এই দুই ঈদ পালন করা হতো?
আরবের জাহেলী সংস্কৃতী ও রীতি রেওয়াজের বাধা অতিক্রম করেই আমরা দুই ঈদ কে উপহার হিসেবে পেয়েছি, হাদিসের মাধ্যমে, রাসূলের সাঃ আমলের মাধ্যমে।
গামেদী সাহেব ঈদের নামাজকেও আবশ্যক মনে করেন। কী কারনে? এই বিশেষ নামাজের কথাতো কুরআনে নাই। মক্কার মুশরিকরা কি বাইতুল্লায় গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতো? মদীনার ইহুদীরা কি কখনও আদায় করেছে? কিংবা নাজরানের খৃষ্টানরা তাদের গির্যায় ?
একই হিসেবে তার মূলনীতি অনুযায়ী জানাজার নামাজের বিধানও গ্রহনযোগ্য হওয়ার কথা না। তার উল্লিখিত দ্বীনের দুই উৎস , তথা কুরআন ও মিল্লাতে ইব্রাহীমের সেইসব আমল যা রাসূল সাঃ বাকি রেখেছেন , এর কোনটাতেই জানাজার নামাজের কথা পাওয়া যায়না। ইসলামের পূর্বে অন্য কেউ এই নামাজ আদায় করেছে বলেও জানা যায়না। কিন্তু তিনি একে ঠিকই দ্বীনের অংশ হিসেবে মানছেন। এই নামাজকে কোনভাবেই ওয়াক্তিইয়া নামাজের সাথে মেলানো যায়না। কেননা এই নামাজের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো মৃতের জন্য দোয়া করা। সুতরাং “ আক্বীমুস সালাহ” এই আয়াতের মধ্যে এই নামাজ অন্ত্ররভূক্ত হবেনা। এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি ওয়াজিব বিধান।
এই সবগুলোই এমন বিধান যা সরাসরি হাদিসের মাধ্যমে, রাসূল সাঃ এর আদেশ বা দেখানো আমলের মাধ্যমে দ্বীনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতী পেয়েছে।
বিস্ময়ের চূড়ান্ত-
গামেদি সাহেবের সামনে আরেকটি মাসালা উত্থাপন করা যায়। কুরআনে শুধু মাত্র চার ধরণের প্রাণী খাওয়া কে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। তথা, মৃত পশু , রক্ত প্রবাহিত হয়নি এমন পশু, আল্লাহ্র নামে জবাই করা হয়নি এমন পশু, এবং শুকর। এই চার ধরণের প্রাণী খাওয়া হারাম।
কিন্তু এর বাইরে আরও অনেক পশু পাখি খাওয়া হারামের বিষয়টা আল্লাহ্ আমাদেরকে তাঁর রাসূলের মাধ্যমে জানিয়েছেন , অর্থাৎ হাদিসের মাধ্যমে। কুরআনে উল্লিখিত চার ধরণের প্রাণীর বাইরে সবধরনের হিংস্র পশুর গোশত খাওয়া হারাম , যেমন বাঘ, সিংহ, চিতা, নেকরে, কুকুর ইত্যাদি। আবার অহিংস্র পশুর মাঝে হাতি, গাধা, জেব্রা , জিরাফ ইত্যাদি। বন্য পাখির মাঝে চিল , বাজ ও নখর দিয়ে শিকারকারি অন্যান্য পাখি। তো, কোনটা খাওয়া হালাল ও কোনটা খাওয়া হারাম এটা শুধুমাত্র রাসূলের সাঃ নির্দেশনার উপর ভিত্তি করেই পুরো উম্মত এতোদিন পর্যন্ত মেনে এসেছে। গামেদি সাহেবের সামনে এখন পথ দুটি। তিনি কি এসব প্রাণীর গোশত খাওয়া কে হালাল বলবেন? যদি হালাল বলেন , তাহলে সেটা খুবই উদ্ভট ও পাগলাটে কথা হবে।
আর যদি সেগুলো কে হারাম বলেন তাহলেতো তিনি নিজেই তার বহু বছরে নির্মিত চিন্তার প্রাসাদে হাতুড়ি চালাবেন। কেননা তার মতে , স্রেফ হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ি কোনকিছু কে হালাল বা হারাম ঘোষণা দেয়া সম্ভব না।
তো, এই উভয় সঙ্কটের এক “ বিস্ময়কর সমাধান” তিনি আবিষ্কার করেছেন।
তিনি বলেন, কোন প্রাণি খাবার উপযুক্ত , কোনটা উপযুক্ত না, কোনটা নোংড়া এবং কোনটা পবিত্র সেটা মানুষের রুচি বা জন্মগত স্বভাবই ঠিক করে দেয়। রাসূল সাঃ যেসব প্রাণীর ব্যাপারে হারাম হওয়ার কথা বলেছেন সেটা একান্তই তার নিজস্ব রুচি ও পছন্দ হিসেবে মতামত দিয়েছেন, শরিয়তের বিধান হিসেবে বলেন নি। মানুষের( অর্থাৎ, উম্মতের সকল ফুকাহা, উলামা, মুজতাহিদ) মূল সমস্যা এটাই , তারা কোনটা শরিয়তের বিধান আর কোনটা ফিতরাত বা স্বভাবজাত রুচির বয়ান, এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য করতে পারেনা। কুরআনে যেসব পশু কে হারাম করাম করা হয়েছে, সেইসব পশুর সাথে এগুলোর কোন সম্পর্ক নাই।
তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন- পশু পাখির গোশত হালাল হারাম হওয়ার ব্যাপারে শরিয়তের নির্দেশনা কুরআনে বর্ণিত স্রেফ এই চার প্রকার প্রাণীর ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। তথা, মৃত পশু, রক্ত প্রবাহিত না হওয়া পশু, আল্লাহ্ ব্যাতিত অন্য কারও নামে জবাইকৃত পশু এবং শুকরের গোশত। আল্লাহ্ একাধিক আয়াতে “ইন্না মা” শব্দ দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে এই চার প্রকার পশুর ব্যাপারেই হারামের ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং এর বাইরে আর কোন পশুর গোশত কে শরঈ হুকুম হিসেবে হারাম ঘোষণা করা যাবেনা। ( মিযান-৩৬)
এই চার প্রকার প্রাণীর বাইরে আরও যেসকল প্রাণি কে রাসূল সাঃ হারাম ঘোষণা দিয়েছেন , হিংস্র জন্তু জানোয়ার, বাঘ , সিংহ , চিতা, গাধা, হাতি, চিল , কাক ইত্যাদি , সেটা রাসূল সাঃ তার নিজের রুচি ও মেজাজের অনুযায়ি অভিমত দিয়েছেন। শরিয়তের হুকুম বয়ান করেননি।
তিনি বলেন- মানুষের স্বভাবজাত রুচি তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এই রুচিই তাকে ঝটপট বলে দিতে পারে কোন জিনিসটা খাবার উপযোগি আর কোন জিনিসটা খাবার অনুপযোগি। ফলে বনের হিংস্র পশু পাখি, বাঘ ভাল্লুক , চিতা , সাপ , চিল, বিচ্ছু ইত্যাদি যে কোনভাবেই খাবার উপযোগি না এই জ্ঞান মানুষ তার স্বভাবজাত রুচি থেকে পেয়েছে। একই সাথে ঘোড়া গাধা ইত্যাদি বাহন হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, তার ভোজন বিলাসের জন্য না, এই জ্ঞানও মানুষ তার বুদ্ধি ও রুচির মাধ্যমে লাভ করেছে। এইসব প্রাণীর মল মূত্র যে নাপাক সে ব্যাপারেও সে জন্মগতভাবে অবগত।
মোটকথা, যেসব হাদিসে এইসব পশু পাখির গোশত খাওয়া কে হারাম ঘোষণা দেয়া হয়েছে সেসব হাদিস নিছকই রাসূল সাঃ এর নিজস্ব রুচির অভিমত, শরিয়তের সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। কেউ যদি এসব পশু পাখি খায় তাহলে সে হয়তো স্বাভাবিক রুচি বহির্ভুত কাজ করলো , কিন্তু তাকে একথা বলার সুযোগ নাই যে সে হারাম গোশত খেয়েছে।
এ যেন উদ্ভট সব চিন্তা আর আত্মবিরোধি বক্তব্যের এক আলাদা জগতই নির্মান করেছেন তিনি। তিনি সম্পূর্ণ নিজের মনমতো করে দ্বীনের একটি চিত্র দাঁড় করিয়েছেন। অত:পর সেই কল্পিত দ্বীনের যেসব আবশ্যিক পরিণতি তার সামনে আসতে লাগলো সেগুলো তার পক্ষে যায়নি। যেমন এসব ক্ষেত্রে তার উসূল ও মূলনীতির দাবী অনুযায়ি কুরআনে বর্ণিত চার প্রকার নিষিদ্ধ প্রাণী ব্যাতীত অন্য সকল প্রাণীর গোশত নিঃশর্তভাবে বৈধ হওয়ার কথা। যেহেতু তার মতে, কুরআনের বাইরে দ্বীনের নতুন কোন বিধান প্রণয়ন করা হাদিসের ক্ষমতার বাইরে। হাদিসের সেই যোগ্যতাই নাই যে সে দ্বীনের বিধানাবলীর উৎস হিসেবে স্বিকৃতী পাবে। সুতরাং হাদিসে বর্ণিত সেসকল নিষিদ্ধ প্রাণী হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। মানুষ যে কুকুর, বাঘ, সিংহ, হাতি গাধা ইত্যাদি প্রাণী কে হারাম জেনে বসে আছে তারা ভুল বুঝেছে। মানুষের রুচির পছন্দ অপছন্দ শরিয়তের বিধান হতে পারেনা।
তিনি যে পর্যায়ে হাদিসের প্রামাণ্যতা কে অস্বীকার করেন তার যৌক্তিক দাবি এটাই ছিলো যে তিনি সবধরণের প্রাণিকেই বৈধ বা হালাল বলবেন। কিন্তু তিনি অতি চৌকস ও বুদ্ধিমান মানুষ। ফলে খুব ভালো করেই বুঝেছেন যে , এই পর্যায়ের উদ্ভট কথা বললে তার চিন্তা ও মতবাদ থেকে মানুষ দূরে সরে যাবে। সুস্থ বোধ বুদ্ধি ও চিন্তার কোন মানুষই তার কথা শুনার প্রতি আগ্রহী হবেনা।
ফলে এই সমস্যা থেকে বাঁচার জন্যই এমন হাস্যকর ও উদ্ভট একটি ব্যাখ্যা তিনি তৈরি করেছেন। এমনই ব্যাখ্যা যা আমাদের বুদ্ধি ও আকল কোনভাবেই গ্রহন করেনা। গামেদি সাহেব অনেক মেধাবি একজন মানুষ , তিনি নিজেও হয়তো এমন ব্যাখ্যায় মানসিক প্রশান্তি লাভ করেননি। শরিয়তের অকাট্য বিধান কে মানুষের রুচির দাবী বলে রাসূল সাঃ এর নির্দেশনা কে তুচ্ছ করলেন।
এখন কাল যদি তার কোণ শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে এই প্রশ্ন করে বসে যে, হে আমাদের উস্তায ও ইমাম, আপনি যে বলেছেন হিংস্র জন্তু জানোয়ার , বাঘ, সিংহ, সাপ বিচ্ছু, চিল বাজ, কুকুর ইত্যাদি প্রাণী খাওয়া শরঈভাবে হালাল, কিন্তু রুচিগত কারণে হালাল না। কিন্তু আমরা পৃথিবীতে এমন জায়গার মানুষের কথা জানি যাদের কাছে এসব অতি সুস্বাদু খাবার হিসেবেই বিবেচিত হয়। তাদের স্বাভাবিক রুচিতেই এগুলো খাওয়া দোষণীয় নয় কোনভাবেই। চিন কোরিয়া জাপান ইত্যাদি দেশগুলো তে সাপ বিচ্ছু বানর কুকুর খাওয়ার প্রচলন সুবিদিত। তারা কোনরূপ সমস্যা ব্যাতিতই এগুলো খেয়ে থাকে।
আপনি যে বলছেন এগুলোকে খাবার হিসেবে বিবেচনা করা মানবরুচি বহির্ভূত , মানুষের স্বাভাবিক রুচিই এগুলোকে খেতে দেয়না, সেটা আপনার সমাজ ও সংস্কৃতির হিসেবে। দুনিয়ার সকল মানুষ কি আপনার রুচি ও সস্কৃতি কে নিজের রুচি ও সংস্কৃতি হিসেবে গ্রহন করে নিতে বাধ্য? যারা এসব প্রানী খায় তাদের স্বাভাবিক রুচি ও সংস্কৃতি তাদের কে এসব প্রাণী খেতে নিষেধ করেনা।
বাকি থাকে রাসূল সাঃ এর নিষেধাজ্ঞা। তিনি এসব প্রাণী খেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আপনার মূলনীতি অনুযায়িতো এই নিষেধাজ্ঞার শরঈ কোন মূল্য নেই । কারন হাদিসের সেই ক্ষমতাই নাই যে, সে দ্বীনের কোন বিধানের উৎস হবে। যাইহোক এমন শুভাকাঙ্ক্ষী নিশ্চয় গামেদি সাহেবের খুব একটা পছন্দ হবেনা। কিন্তু তার জিজ্ঞাসাটা কি অযৌক্তিক?
দ্বীন যদি গামেদি সাহেবের এই মূলনীতি অনুযায়ি চলে তাহলে এর তিন চতুর্থাংশই বিলীন ও অকার্যকর হয়ে পড়বে। তখন দ্বীন চলবে গামেদি সাহেবের এমন কতিপয় হৃদয়গ্রাহী, যুগান্তকারি সব চিন্তা ও বক্তব্যের উপর নির্ভর করে।
সকল ভ্রান্তির গোড়া
সবচাইতে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো , রাসূল সাঃ এর আগমন ও নবুওত প্রাপ্তির ১৪শত বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে, এতোদিন পর এসে একজন লোক দাবী করে বসলো দ্বীনের উৎস কী , হাদিস ও সুন্নাহর অর্থ কী , কোন জিনিস দ্বীনে গ্রহনযোগ্য আর কোন জিনিস গ্রহনযোগ্য না, সেটা না পূর্বের কেউ বুঝেছে না পরবর্তীদের কেউ বুঝেছে। আমিই একমাত্র ব্যাক্তি যে এই বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়েছি।
বিস্ময়ে বুদ্ধি থমকে যায়। গামেদি সাহেব একজন সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ , তিনি এসব কি ধরণের কথা বলছেন? তিনি বলেন , রাসূল সাঃ এর উপর ঈমান আনয়নকারি সাহাবির সংখ্যা যদিও লাখের উপর, এবং সকল বিচারে তারা মানব বাগানের শ্রেষ্ঠ ফুল, ইসলাম নামক বৃক্ষের সর্বোৎকৃষ্ট ফল , দ্বীন ও ইসলাম প্রচারে তারা তাদের প্রচেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেননি, তথাপি রাসূল সাঃ তাদের কাছে এটা স্পষ্ট করে যাননি যে দ্বীনের উৎস কী এবং কোনটি।
সাহাবায়ে কেরামের পর ইসলামি জ্ঞানের যে সিলসিলা জারি হয়েছে, হাজারো লাখো মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সিলসিলা বহন করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দিয়েছেন , যাদের মাঝে তাবেঈন , তাবে তাবেঈন, ফুক্বাহা, মুহাদ্দিসীন, ইমাম মুজতাহিদ সকলেই শামিল রয়েছেন, তারা এই পর্যায়ের মূর্খ ও নির্বোধ ছিলেন যে, দ্বীনের উৎস কোনটি, কোন জায়গা থেকে দ্বীনের ইলম নিতে হবে সেই জ্ঞান পর্যন্ত তাদের ছিলোনা! আল্লাহ্ মাফ করুন!
আজ এতো বছর পর এসে গামেদি সাহেব এসে বলছেন, তোমরা এতোদিন যা জানতে তা ভুল। দ্বীনে লা রাইব বাঁ সংশয়হীন দ্বীনের উৎস স্রেফ দুটি , কুরআন ও দ্বীনে ইব্রাহীম তথা আরবের মুশরিক, ইহুদি ও নাসারারা যেসব ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ পালন করতো সেগুলো কে পরিমার্জন ও পরিশোধনের পর রাসূল সাঃ তার উম্মতের জন্য যেসব রীতি রেওয়াজ জারি রেখেছেন সেগুলো ।
এই দুয়ের বাইরে তৃতীয় কোন বিষয় না দ্বীন হতে পারে না দ্বীনের বিধি বিধানের উৎস হিসেবে স্বিকৃতি পাবে।
আরও হাস্যকর ব্যাপার দেখুন , তিনি এতো বড় দাবী করেছেন , দ্বীনের উৎস ও ভিত্তি কী, সেটা তিনি ব্যাতিত আর কেউ জানেনাই এতোদিন , এমন দাবী দিয়ে তার ঢাউস সাইজের কিতাব “ মিযান” পূর্ণ করে রেখেছেন ,কিন্তু এর সপক্ষে দলিল বা প্রমাণ দেননি একটিও। দলীলের কাছাকাছি যায় এমন কিছুরও উল্ললেখ নাই তার কিতাবে। দ্বীনে ইব্রাহীমের যেসব ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ রাসূল সাঃ জারি রেখেছেন সেগুলোই দ্বীনে ইসলামের উৎস , এমন বিস্ময়কর দাবীর একমাত্র দলীল হচ্ছে “ আমি এমনটা মনে করি” বা “ আমার সুদীর্ঘ গবেষণার পর এটাই প্রতিভাত হয়েছে আমার নিকট” । সুবহানাল্লাহ! হায় আল্লাহ্, রহম করো!
আমার এই লেখার উদ্দেশ্য গামেদি সাহেবের চিন্তার খন্ডন বা সেগুলোর তাত্ত্বিক পর্যালোচনা করা না। আমি সুস্পষ্টভাবে স্রেফ এটা দেখাতে চেয়েছি যে, তিনি একজন হাদিস অস্বীকারকারী । হাদিসের প্রামাণ্যতা ও শরিয়তে এর ভূমিকা তিনি স্বীকার করেন না। যদিও আর দশজন হাদিস অস্বীকারকারির মতো তিনি সরাসরি এটা স্বীকার করেন না। বরং অনেক কৌশল ও বক্তব্যের মারপ্যাঁচের আশ্রয় নেন। ফলে আমি এটাও দেখাতে চেয়েছি তার সেসব ঘোরানো প্যাঁচানো বক্তব্যের শেষ পরিণতি কী দাঁড়ায়।
তিনি দ্বীনের নিজস্ব একটি চিত্র ও বুঝাপড়া তৈরী করে নিয়েছেন , সেটা তার কিতাব মিযানের ভূমিকাতেই স্পষ্ট করে বলেছেন-
আল্লাহ্ নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম। আমি আমার দীর্ঘ ২৫ বছর গবেষণা ও চিন্তা ফিকিরের পর এই দ্বীন সম্পর্কে যা বুঝেছি সেগুলই এই কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছি।“
তো তার সেই বুঝাপড়ায় রাসূল সাঃ এর হাদিস কোন স্থান পায়নি। তবে হ্যাঁ, হাদিসের সাথে যদি “ মিল্লাতে ইব্রাহীমের কোণ আমল” মিলে যায় তখন সে হাদিস তিনি গ্রহন করতে রাজী আছেন। কিন্তু এর বাইরে, রাসূল সাঃ এর আদেশ, নিষেধ, ওয়াযিব, ফরয, সুন্নত, হালাল, হারাম, সওয়াব, গুনাহ, কোন কাজের জন্য লা’নত, ভয়াবহ শাস্তির হুশিয়ারি, কিংবা সুসংবাদ ইত্যাদি হাদিসরূপে যা কিছুই আসুক কোনটাই গ্রহণযোগ্য না তার কাছে , দ্বীনের সাথে সেগুলোর কোন সম্পর্ক নাই। সেগুলো অনর্থক বা মূল্যহীন! আল্লাহ্ মাফ করুন।
এতোসব স্পষ্ট টেক্সট, ইবারাত, এবং বক্তব্য বিদ্যমান থাকার পরেও গামেদি সাহেব বারবার একই কথা বলেন, হাদিস ও সুন্নতের ব্যাপারে তার বক্তব্য ও সালাফদের বক্তব্যের মাঝে তেমন মৌলিক কোন পার্থক্য নাই। বরং স্রেফ পরিভাষা, জ্ঞানতাত্তিক বিন্যাস ও প্রকাশের পার্থক্য। কিন্তু সত্ত্বাগতভাবে একই কথা। এমনটা তিনি নিজেও বলেন এবং তার ভক্ত মুরিদান কিংবা তার পক্ষ নিয়ে সাফাই প্রদানকারিরাও বলে থাকেন। আমাদের চাওয়াও এমনটাই। কিন্তু সত্যিই যদি তিনি এমনটা মনে করে থাকেন তাহলে তাকে অবশ্যই পূর্বোল্ললিখিত বক্তব্য সহ এমন আরও অসংখ্য বক্তব্য রয়েছে যেগুলো থেকে স্পষ্টভাবে ফিরে আসতে হবে। এইসব বক্তব্য তিনি তার চিন্তার ভিত্তিমূলক কিতাব “ মিযান” এ লিপিবদ্ধ করেছেন। এগুলোর অর্থ ও মর্ম পরিষ্কার। সাধারণ অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন যে কেউ পড়লেই বুঝতে পারবে। তিনি যে বলেছেন হাদিস থেকে আহরিত কোন বিধান ঠিক তখনই গ্রহন করা হবে, যখন এর সপক্ষে মিল্লাতে ইব্রাহীমের কোন দলীল পাওয়া যাবে, এমন কথা আমাদের সালাফদের কে বলেছেন ? হাদিস বলতে কি তাঁরা এটা বুঝতেন? যদি বলে থাকেন তাহলে সেই প্রমাণ দেয়া উচিত। আর যদি এর কোন প্রমাণ না থাকে তাহলে “ আমার বক্তব্য আর সালাফদের বক্তব্যের মাঝে মৌলিক কোণ বিরোধ নাই” এমন বক্তব্য পরিহার করা উচিত।
গামেদি সাহেবের এই মৌলিক বিভ্রান্তির আলোচনার পর আর কোন বিস্তারিত বিবরণ ও পর্যালোচনার প্রয়োজন থাকেনা। তার কোন কোন মতামত সঠিকও হতে পারে। কিন্তু যার মূল ভিত্তিতেই এতোবড় সমস্যা তার এক দুইটা সঠিক মতামত শুনার কোন যৌক্তিক কারন নাই। ইসলামী জ্ঞানের যে সিলসিলা রয়েছে সেখানে গুরুত্ত্ব পাওয়ার মতো যোগ্য লোক নন তিনি।
আমরা নিজেদের জন্যও আল্লাহ্র দরবারে প্রার্থনা করি , আল্লাহ্ যেনো আমাদের সঠিক রাস্তায় অবিচল রাখেন, গামেদি সাহেবের জন্যও একই দোয়া করি। আল্লাহ্ যেনো তাকে রাসূল সাঃ এর দেখানো পথ ও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণ করে চলে তোউফিক দান করেন।
সৌজন্যে, মাহনামা দারুল উলুম দেওবন্দ