শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী: জীবন কর্ম ও রচনা

আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম ‘শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী’ ছিলেন জ্ঞান ও চিন্তার জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। উপমহাদেশে মুসলিমদের জীবনে দ্বীনি ক্ষেত্রে তার চেয়ে প্রভাবশালি দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি পাওয়া দুস্কর। ইসলামের মূল ও বিশুদ্ধ শিক্ষা সংরক্ষণ ও প্রচার প্রসারে তিনি ছিলেন ‘মহান সংস্কারক’।  আকীদা হাদীস তাফসীর ইসলামি দর্শন তাসাউফ প্রভৃতি শাস্ত্রে তিনি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করে সমৃদ্ধ করেছেন ইসলামি জ্ঞান জগত। একারণে পুরো পৃথিবীতে তিনি এখনো প্রাসঙ্গিক। বিশ্বের জ্ঞানী ও পণ্ডিত সমাজ তাকে পাঠ করে নিয়মিত। তার চিন্তা ও দর্শনের পাঠকে দেখে  নিজেদের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে। আরব আজমের সকল হাদীস বিশারদ শাহ ওলিউল্লাহ’র ‘ইলমি সনদ’কে নিজেদের জন্য পরম সম্মানজনক মনে করেন। 

শাহ ওলিউল্লাহ’র জন্ম মুজাফফরনগর জেলার ফুলাত গ্রামে, ১৪ শাওয়াল ১১১৪ হিজরীতে (১৭০৩ খ্রিস্টাব্দ)। পিতা শায়খ আব্দুর রহীম ছিলেন দিল্লীর প্রসিদ্ধ হানাফী পণ্ডিত বরেণ্য শিক্ষক ও উঁচুস্তরের বুযুর্গ ব্যক্তি। ‘ফতোয়ায়ে আলমগিরি’ সংকলন বোর্ডের অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন কিছু দিন। মাতা খায়রুন্নিসাও ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক ও উচ্চ শিক্ষিত। শাহ ওলিউল্লাহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন পিতার নিকট। মাত্র পনেরো বছর বয়সে সে সময় প্রচলিত সকল শাস্ত্রের অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন। হাদীস গ্রন্থের মধ্যে পাঠ করেছেন মিশকাত সহীহ বুখারী ও শামায়েলে তিরমিযির উল্লেখযোগ্য অংশ। তাফসীর ফিকহ উসুলে ফিকহ আকীদা তাসাউফ চিকিতসা হেকমত ফালসাফা জ্যোতির্বিজ্ঞান গণিত অলংকারসহ অন্যান্য শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলো পাঠ করেন। মাঝে মধ্যে তিনি প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ আফজল শিয়ালকুটির দরসেও বসতেন। এবং হাদীস শাস্ত্রে তার থেকে উপকৃত হয়েছেন ভরপুর। 

আনুষ্ঠানিক অধ্যয়ন সম্পন্ন করার পর পিতার কাছ থেকে অধ্যাপনার অনুমতি লাভ করেন। তারপর বারো বছর শিক্ষকতায় নিয়োজিত থাকেন। তার বয়স যখন সতেরো তখন পিতা শায়খ আব্দুর রহীমের ইন্তেকাল হয়ে যায়। ফলে তিনি পিতার স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত হন।

১১৪৩ হিজরীতে তার মামা ও কয়েকজন সঙ্গীর সাথে হিজাযের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পবিত্র মক্কা মদীনায় তিনি চৌদ্দ মাস অবস্থান করেন। এ সফরটি তার জীবনের মোড় পরিবর্তন করে দেয়। তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন ভিন্ন পরিচয়ে। এ সময়ে তিনি দুই বার হজ্ব আদায় করেন। বাকী সময় মক্কা মদীনার প্রখ্যাত মুহাদ্দিসদের কাছে হাদীসের পাঠ গ্রহণ করেন তিনি। শায়েখ আবু তাহের মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম কুর্দি, শায়েখ ওয়াফদুল্লাহ মালেকি মাক্কি, শায়েখ তাজুদ্দিন হানাফী মাক্কি তাদের অন্যতম। মদীনার শায়েখ আবু তাহের কুর্দির নিকট সহীহ বুখারীর পূর্ণ পাঠ গ্রহণ করেন। অন্যান্য প্রসিদ্ধ কিতাবের অংশ বিশেষও পড়েছিলেন তার কাছে। পড়াশোনায় একাগ্রতা অসাধারণ মেধা ও ইলমি পাণ্ডিত্যের কারণে তিনি অর্জন করেছিলেন শায়েখ কুর্দির বিশেষ আনুকূল্য ও মনোযোগ। এই শিষ্য সম্পর্কে শায়েখ কুর্দি বলতেন, ‘সে আমার থেকে (হাদীসের) শব্দ গ্রহণ করেছে আর আমি তার থেকে হাদীসের মর্ম ঠিক করে নিতাম’। ১১৪৪ হিজরীতে তিনি শায়েখ কুর্দি থেকে হাদীসসহ অন্যান্য শাস্ত্রের সনদ লাভ করেন। শাহ ওলিউল্লাহ ও তার শায়েখ আবু তাহের কুর্দির বিরল সৌভাগ্য হল, বর্তমান পৃথিবীতে হাদীসের যত সনদ আছে তার অধিকাংশই এই দুই মুহাদ্দিসের সূত্রে বর্ণিত।

হারামাইনের বরকতময় সফর শেষ করে ১১৪৫ হিজরির শুরুর দিকে হিন্দুস্তানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। প্রায় ছয় মাস পর, ১৪ই রজব ১১৪৫ হিজরিতে দিল্লী পৌঁছেন। সামান্য বিরতির পর নতুন উদ্যমে অধ্যাপনা শুরু করেন, যা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলমান ছিল। ২৯ মোহররম ১১৭৬ হিজরি মোতাবেক ২০ আগস্ট ১৭৬২ সনে তিনি ইন্তেকাল করেন। 

শাহ ওলিউল্লাহর জন্ম বাদশা আলমগীরের শাসন আমলের শেষ দিকে। তিনি যখন বেড়ে উঠেন এবং কর্ম জীবনে প্রবেশ করেন সময়টা ছিল অত্যন্ত সঙ্গীন। প্রতাপশালি মোঘল সাম্রাজ্য সঙ্কীর্ণ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। আমীর উমারাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। বহির্শত্রুর আঘাত হানছে একের পর এক। এই সুযোগে ইংরেজ বেনিয়া গোষ্ঠি রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন বিষয়ে নাক গলাচ্ছে। অপরদিকে মুসলিম সমাজের বৃহত্তর অংশের শিক্ষা নৈতিকতা ও অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয়। ভ্রান্ত আকীদা বিশ্বাস বিদআত কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিরেওয়াজ ঢুকে পড়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

আল্লাহ তায়ালা শাহ ওলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভীর অন্তরে এই সংকটপূর্ণ অবস্থা সংস্কারের প্রেরণা ঢেলে দিলেন। মুহাদ্দিসে দেহলভী অধ্যাপনার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রকে অবলোকন করতে থাকলেন গভীরভাবে। সংকট ও সমস্যা চিহ্নিত করলেন, এর সমাধান ও উত্তরণের উপায় নিয়ে দীর্ঘ চিন্তা ফিকির করে কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করলেন। 

তিনি দেখলেন, মানুষের আকীদা বিশ্বাস সংশোধন ও ইসলামি মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার সবচে সফল ও কার্যকরী মাধ্যম হল কুরআনে কারীম। সে সময় কুরআনের পাঠ ও অনুধাবন শুধু আলেমদের মধ্যে সীমিত ছিল। তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে কুরআনের বার্তা ও বাণি পৌঁছে দিতে ফার্সিতে কুরআনের তরজমা করলেন। সাথে যোগ করলেন প্রয়োজনীয় টীকা ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। এর নাম ‘ফাতহুর রহমান ফি তাফসীরিল কুরআন’। তাছাড়া কুরআন অধ্যয়নের মূলনীতি বিষয়ে অসাধারণ একটি পুস্তিকাও রচনা করেন। ফার্সিতে লিখিত পুস্তিকাটির নাম ‘আল ফাওযুল কাবির’। ভাষা হিসেবে ফার্সিকে অবলম্বন করার কারণ হচ্ছে এটি তখন সরকারি ও দাপ্তরিক ভাষা ছিল। এর মাধ্যমেই সমাজের সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সহজে পৌঁছানো সম্ভব। ওলিউল্লাহি এই চিন্তাকে ধারণ করেন তার সুযোগ্য সন্তান ও ছাত্ররা। ছেলে আব্দুল আজীজ মুহাদ্দেসে দেহলভী রচনা করেন ‘তাফসীরে আযিযি’। অপর দুই ছেলে মাওলানা আব্দুল কাদীর ও মাওলানা রফিউদ্দীন কুরআনে কারীমের দুটি তরজমা রচনা করেন উর্দুতে। বস্তুত উপমহাদেশে কুরআন তরজমা রচনা ও সাধারণদের উপযোগি যে দরসে কুরআন ও তাফসীরের আয়োজন, এর বীজ শাহ ওলিউল্লাহই বপন করেছিলেন। 

শাহ ওলিউল্লাহ কুরআনি শিক্ষাকে ব্যাপকায়নের পাশাপাশি হাদীসের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেন। কেননা তার মতে, সমাজের বিদআত কুসংস্কার ও অনৈসলামিক জীবনধারাকে রহিত করার জন্য নবীজির হাদীস ও সুন্নতের বিস্তারের কোন বিকল্প নেই। শাহ ওলিউল্লাহ’র সময়টাতে এ অঞ্চলে হাদীসের চর্চা সীমিত। ফিকহ উসুলে ফিকহ ফালসাফা ও মানতেকের মতো শাস্ত্রগুলোর চর্চা ছিল ব্যাপকআকারে। এমনকি সে সময় হাদীসের প্রসিদ্ধ ছয়কিতাব ক্লাসে পড়ানোও হতো না। শাহ ওলিউল্লাহ এ জায়গায় বড় রকমের সংস্কার করেন। হাদীসের প্রসিদ্ধ ছয় কিতাবসহ অন্যান্য কিতাব ক্লাসে পড়ানো শুরু করেন। এর মধ্য দিয়ে সরাসরি হাদীসের সাথে ছাত্রদের সম্পর্ক তৈরি হয়। শুরু হয় হাদীস চর্চার এক নতুন যুগ। যার সুদূর প্রসারি প্রভাব পুরো উপমহাদেশে এখনো লক্ষ্য করা যায় ব্যাপকভাবে। শাহ ওলিউল্লাহর চালু করা কুতুবে সিত্তার দরস এখনো উপমহাদেশের মাদ্রাসাগুলোয় জারী আছে। বরং হাদীসের এই ধারাবাহিক ও ক্লাসভিত্তিক নিয়মিত পাঠ বর্তমান পৃথিবীতে শুধু এ ধারার মাদ্রাসাতেই রয়েছে।

ইসলামে রাজনীতির অবস্থান, খেলাফত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ও খোলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফতের যথার্থতা সে সময়ের অতি প্রয়োজনীয় একটি বিষয় ছিল। এছাড়া রাজনৈতিক সংস্কার সম্ভব নয়। এসব ব্যাখ্যা করে তিনি লিখলেন ‘ইযালাতুল খাফা আন খিলাফাতিল খুলাফা’। ফার্সি ভাষায় লিখিত কিতাবটি আলোচ্য বিষয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রামাণ্য রচনা। 

পাঠদান বা লেখালেখির মধ্যেই নিজেকে সীমিত রাখেননি শাহ ওলিউল্লাহ। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সাথে তার যোগাযোগ ছিল। তাদের সংশোধনে তিনি নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বাদশা আমীর উমারা মন্ত্রী সৈনিক পীরজাদা ভ্রান্ত আলেম পেশাজীবি শ্রমিক সবার উদ্দেশ্যে তিনি পত্র লিখেছেন। ইসলামের সঠিক শিক্ষাকে জীবনের মূল অবলম্বন বানানোর আহবান জানিয়েছেন সর্বাত্নকভাবে। দেশের রাজনৈতিক অস্থীরতা ও সংকট সমাধানে এগিয়ে এসেছেন সাহসিকতার সাথে। 

তাসাউফের নামে নানা রকম ভ্রান্তি ও বিচ্যূতি তৈরি হয়েছিল খোদ দ্বীনদার শ্রেণির মাঝে। শাহ ওলিউল্লাহ নিজে তাসাউফের দীক্ষা গ্রহণ করেছেন, তার পিতার হাতে বায়াত হয়েছিলেন সেই যৌবনের শুরুতে, কিন্তু এসব ভ্রান্তিকে তিনি বরদাশত করেন নি। সোচ্চার হয়েছেন এবং একাধিক গ্রন্থও রচনা করেছেন। যাতে তাসাউফের সঠিক ও নির্ভেজাল শিক্ষা তুলে ধরেছেন সাবলীল ভাবে। বিদআত সমাজের ভ্রান্তি ও বিচ্যূতির সংস্কার করতে যেয়ে তিনি ও তার পরিবারকে বেশ সংগ্রামও করতে হয়েছে। 

হযরত শাহ ওলিউল্লাহ’র একটি অনন্য দিক হচ্ছে, ব্যক্তিগত জায়গা থেকে তিনি সংস্কারমূলক বিভিন্ন কাযে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করেছেন, পাশাপাশি তার চিন্তা ও মিশনকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি যোগ্য মানুষ তৈরি করেছেন। এটি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এজন্য তার সন্তান ও শিষ্যদের হাত ধরে ‘ওলিউল্লাহি’ চিন্তা উলামায়ে দেওবন্দ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এবং তারা এখনো এই চিন্তাকে ধারণ করে চলেছেন। 

আমরা দেখেছি, হযরত শাহ ওলিউল্লাহ রচনার ক্ষেত্রে বৈচিত্রের অধিকারি ছিলেন। তবে তার রচনাগুলোর মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে যে গ্রন্থকে বিবেচনা করা তা হচ্ছে, ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ’।  

বস্তুত এটি এতই প্রসিদ্ধ ও মূল্যবান গ্রন্থ, অনেক পণ্ডিত শুধু এই একটি কিতাবের কারণে তাকে ‘ইমাম’ মানেন। কিতাবটির অনন্যতা উপলব্ধির জন্য সে সময়কার পৃথিবীর একটি সাধারণ চিত্র আমাদের সামনে থাকা উচিত। 

শাহ ওলিউল্লাহর জন্ম বেড়ে উঠা পড়াশোনা ও কর্ম জীবন হচ্ছে ১৭০৩ সাল থেকে ১৭৬২ সালের মধ্যে। এই সময়টাতে আধুনিক ইউরোপের জন্ম হচ্ছিল। তাদের ‘ডার্ক এজ’ বা মধ্যযুগের পর রেনেসাঁর মধ্য দিয়ে নতুন চিন্তা দর্শন ও সভ্যতা পশ্চিমারা নির্মাণ করছিল তখন। যেখানে ধর্ম ধর্মীয় শিক্ষা গীর্জা ফাদার পোপ সবকিছু গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছিল সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে। এসবের স্থান দখল করছিল যুক্তি মুক্তচিন্তা মানবতাবাদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কার। ১৭৬০ সালে শুরু হওয়া শিল্প বিল্পব এই ধারায় আরো গতি আনে। ১৭৮৯ সালে শুরু হওয়া ফরাসি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ধর্ম ও ধর্মের কর্তৃত্বকে পশ্চিমা সমাজের মূলধারা থেকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দেয়া হয়। সূচনা হয় সম্পূর্ণ ধর্মহীন নিরেট বস্তুবাদী এক সমাজ ব্যবস্থার। 

পশ্চিমাদের বিবর্তনের এই ঢেউ পুরো পৃথিবীতে আঘাত হানে। বরং সত্য হল, পশ্চিমারা একে সর্বশক্তি দিয়ে একে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়, নিজেদের স্বার্থে। ফলে মুসলিম দেশগুলোও ধর্মহীন পশ্চিমা দর্শন ও মুক্তচিন্তার বিষাক্ত আগ্রাসন থেকে নিরাপদ থাকে নি। মুসলিম সমাজের বড় একটি অংশের মধ্যেও ধর্ম ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবর্তে যুক্তি ও মুক্তচিন্তা জনপ্রিয় হতে থাকে। 

শাহ ওলিউল্লাহ রহঃ এর প্রতি খাস অনুগ্রহ হচ্ছে, তিনি ‘ফিরাসাত’ বা  দূরদৃষ্টি দিয়ে মুসলিম সমাজের আশু এই বিবর্তন টের পেয়েছিলেন। বুঝতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে কোন ভাষা ও ভঙ্গিতে উপস্থাপন করতে হবে ইসলামের আকীদাবিশ্বাস ও বিধিবিধান। 

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রথম মন্তব্য প্রকাশের আগে পর্যালোচনা করা হয়।

Picture of আনাস চৌধুরী
আনাস চৌধুরী
আনাস চৌধুরীর জন্ম নব্বইয়ের শেষ দিকে, হবিগঞ্জ সদরে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়াতে। পরবর্তিতে দারুল উলুম দেওবন্দেও অধ্যয়ন করেছেন এক বছর। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক, হবিগঞ্জের দারুল ইরশাদ বহুলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। লেখালেখি, অনুবাদ ও দ্বীনি আলোচনাতেও তার অংশগ্রহণ রয়েছে। বাংলা ও আরবীতে অনুবাদ করেছেন বেশ কিছু বই। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রকাশিত হয়েছে।
লেখকের অন্যান্য লেখা

সূচিপত্র

সর্বাধিক পঠিত
ঈমানের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা
উত্তম আখলাক: অনন্য ছয়টি মর্যাদা
ক্রোধ সংবরণ: কেন ও কিভাবে
নববী চিকিৎসা : কিছু প্রয়োজনীয় আলোকপাত
ফিকহ কী: পরিচয় ও প্রায়োগিক বিশ্লেষণ
কুরআনের আলো পেতে যে বিষয়গুলো লাগবেই!