কী পড়ব, কেন পড়ব?

জামিল সাহেব একজন কলেজ শিক্ষক। কিছু দিন যাবৎ ভাবছেন নবীজির পবিত্র সীরাত সম্পর্কে পড়াশোনা করবেন। একদিন হাজির হলেন শহরের প্রসিদ্ধ একটি বইয়ের দোকানে। কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করে দুটি বই তিনি পছন্দ করেছেন। একটি ‘কারেন অ্যার্মস্ট্রং রচিত ‘মুহাম্মদঃ এ্যা বায়োগ্রাফি অফ দি প্রফেট’।  অন্যটি ‘দ্য প্রফেট’। লিখেছেন এমেরিকান লেখিকা লেসলি হ্যাজেলটন।

অপরদিকে রফিক আহমদ একজন ব্যবসায়ী। ইসলাম সম্মত জীবন যাপনে তিনি নতুনভাবে যত্নবান হয়েছেন। ইসলামকে ভালোভাবে জানতে চান তিনি। এজন্য সহীহ বুখারির বঙ্গানুবাদ অর্ডার করেছেন। শীঘ্রই বুখারী শরীফ অধ্যয়ন শুরু করবেন। 

রাফি নবম শ্রেণির ছাত্র। আমল আখলাক ভালো। নিয়মিত নামায আদায় করে। ইসলামি অনুশাসন মেনে চলে যথাসাধ্য। কয়েকদিন এক বড়ভাই একটি বই দিয়েছেন তাকে। বাংলাদেশের জনৈক নাস্তিক ইসলাম সম্পর্কে কিছু আপত্তি করেছিল, বইয়ের লেখক সেসব আপত্তির খণ্ডন করেছেন। বইটি মনোযোগ দিয়ে রাফি পড়ছে এবং নতুন অনেক বিষয়ের সাথে সে পরিচিত হচ্ছে। 

আমাদের দেশে যারা দ্বীনি বই পত্র পড়েন তাদের বড় একটি অংশের সচরাচর চিত্র এটি। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছেন এবং তাদের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। বাকী উপরের চিত্রটি অধিকাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। সামগ্রিকভাবে এই  চর্চায় নানা রকম অসঙ্গতি রয়েছে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য বই পাঠ সম্পর্কে মৌলিক কয়েকটি বিষয় আলোচনা করব এই রচনায়। 

১- বিষয়ের স্তর বিন্যাস

ইসলামী বিধিবিধান ও শিক্ষার একটি ধারাবাহিকতা ও স্তর রয়েছে। ইসলামে সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ঈমান আকীদা ও বিশ্বাস। তারপর ইবাদত বন্দেগী, লেনদেনে হালাল হারাম এভাবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিষয়। আমরা যখন বই সংগ্রহ করব বা পড়ব এক্ষেত্রে এই স্তর বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে গুরুত্বের সাথে। যেমন দেখা গেল, কেউ ইসলামি শিষ্টাচার সম্পর্কে কিংবা মুসলিম শাসকদের ইতিহাস নিয়ে প্রচুর বইপত্র পড়ছেন। কিন্তু আকীদা বা হালাল হারাম সম্পর্কে তার পড়াশোনা একেবারেই নগণ্য। এটি আপত্তিকর। সন্দেহ নেই, ইসলামি শিষ্টাচার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন জরুরী। ইতিহাস জানাও উপকারি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু সেটা অবশ্যই আকীদা বিশ্বাস প্রয়োজনীয় মাসায়েল ও তুলনামূলক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নিশ্চিত করে হতে হবে।

২- বইয়েরও স্তর বিন্যাস আছে

বিষয় বস্তুর মতো বইয়ের ক্ষেত্রেও স্তর বিন্যাস আছে। সব বই সকল স্তরের পাঠকের জন্য নয়। এটি খুবই সাধারণ এবং সর্বস্বীকৃত বিষয়। যে ছাত্রটি ক্লাস সিক্সে পড়ে তার জন্য অনার্স ক্লাসের বই কিছুতেই উপযোগী হতে পারে না। এই অনুপযোগিতার কারণ এটা না যে, অনার্সের বই ‘মানোত্তীর্ণ’ নয় কিংবা ক্লাসে সিক্সের ছাত্রটি অযোগ্য। সত্য হল, সিক্সের ছাত্রটি যখন জ্ঞান অর্জনের একটি নির্দিষ্ট স্তর অতিক্রম করবে তখন সে অনায়েসে ক্লাস অনার্সের বই পাঠ করতে পারবে। 

এটি ইসলাম বিষয়ক বইপত্রের ক্ষেত্রেও লক্ষনীয়। কেউ কুরআনে কারীম বুঝে পড়ার ইচ্ছা করেছেন। তিনি শুরুতেই তাফসীরের উঁচুস্তরের কিতাব, যেমন তাফসীরে তাবারি, তাফসীরে রাযি বা ইবনে কাসীর নিয়ে পড়তে শুরু করবেন না। বরং প্রাথমিকদের জন্য রচিত সহযে আয়ত্ত্ব করা যায় এমন তাফসীর নির্বাচন করবেন। সেটা হতে পারে তাফসীরে উসমানি বা তাওজিহুল কুরআন কিংবা এ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য অন্যান্য কুরআন তরজমা ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা। 

এমনিভাবে হাদীসের ক্ষেত্রেও প্রথমেই সহীহ বুখারী সহীহ মুসলিম বা এ স্তরের কিতাব নয়। এগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ের শাস্ত্রীয় গ্রন্থ। দীর্ঘ বছরের পর বছর ইসলামি জ্ঞান সাধণায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার পরই একজন শিক্ষার্থীকে এসব শাস্ত্রীয় কিতাব পাঠদান করা হয়। এসব কিতাবের আগেপড়ানো হয় প্রয়োজনীয় অন্যান্য শাস্ত্র ও গ্রন্থ । যাতে শিক্ষার্থীরা এগুলো যথাযথভাবে বুঝতে সক্ষম হয়। শুধু তাই নয় সহীহ বুখারী মুসলিম যথাযথভাবে বুঝার জন্য বিশাল কলেবরের বহুসংখ্যক ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়োজন হয়েছে। যে ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর সাহায্য ছাড়া এসব কিতাব থেকে কাঙ্খিত উপকার গ্রহণ দূরুহ কাজ। 

এজন্য হাদীস পাঠের ক্ষেত্রে শুরুতেই উঁচু স্তরের কিতাব না নিয়ে, সাধারণদের উপযোগি প্রাথমিক পর্যায়ের কিতাব নির্বাচন করা জরুরি। এ প্রয়োজনকে সামনে রেখে যুগে যুগে আলেমগণ হাদীসের বহু সংকলন তৈরি করেছেন। যেমন, মাওলানা মনজুর নোমানি কৃত আলফিয়াতুল হাদীস, ফয়যুল কালাম, রিয়াযুস সালেহীন, মারিফুল হাদীস, তারগীব ওয়াততারহীব ইত্যাদি। 

একই কথা আকীদা ফিকহ তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি ইতিহাসসহ অন্যান্য বিষয়ক বইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নিজের স্তর অনুযায়ি প্রাথমিক পর্যায়ের বই দিয়ে পাঠ শুরু করা চাই। 

৩- বইয়ের লেখক সম্পর্কে জানা জরুরী

ইসলামে ভুল কথা ভুল কাজ ও ভুল চিন্তার কোন স্থান নেই। এখানে সঠিক ও সত্যের স্থান সবার উপরে। একারণে কুসংস্কার, বিদআত, জাল হাদীস ইত্যাদির ব্যাপারে ইসলাম কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এজন্য দ্বীনি বিষয়ে লিখিত বইপত্রের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। ইসলাম বিষয়ে যে কেউ যে কোন বই লিখে প্রকাশ করলেই সেটা মুসলিমদের জন্য পাঠযোগ্য হয়ে যায় না। এজন্য বইটি ইসলামি মূলনীতির আলোকে অবশ্যই নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে। 

একটি বই নির্ভরযোগ্য কি না, এটি অনেকাংশেই নির্ভর করে বইটির লেখকের উপর।  ইসলাম ও দ্বীনি বিষয়ে লেখার একাডেমিক যোগ্যতা যদি  তার থাকে এবং তিনি আলেমদের নিকট নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকৃত হন, তাহলে এমন লেখকের বইপত্র স্বাভাবিকভাবেই নির্ভরযোগ্য হবে। অপর দিকে কোন ব্যক্তির যদি ইসলাম বিষয়ে শাস্ত্রীয় জ্ঞান না থাকে, অথবা একাডেমিক পড়াশোনা থাকলেও তার আকীদা বিশ্বাস বা চিন্তা-চেতনা নির্ভরযোগ্য আলেমদের নিকট আপত্তিকর হয়, তাহলে সাধারণভাবে তার বই অনির্ভরযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত হবে। 

এর মানে কিছুতেই এটা না, অনির্ভরযোগ্য লেখকদের বইয়ের সবটাই ভুল। বরং সঙ্গত কারণে যাকে এক্ষেত্রে অনির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তার কোন কথাটা গ্রহণযোগ্য, আর কোন কথাটা ইসলামি মূলনীতির আলোকে প্রত্যাখ্যাত এটি বিচার করার সামর্থ্য সকল পাঠকের নেই। এজন্য এমন লেখকদের বইপত্র পাঠ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

মূল কথা হচ্ছে, কোন লেখকের বই পাঠ করছি, ইসলামি জ্ঞান চর্চায় এটি অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কিন্তু বই নির্বাচনে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই একে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করি না। হয়তো এমন কারো বই পড়ছি যার সম্পর্কে আমার একেবারেই জানাশোনা নেই। অথবা যার পড়াশোনা একেবারেই ব্যক্তিগত পর্যায়ের। দ্বীন সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক বা স্বীকৃত পদ্ধতিতে কোন শিক্ষা তার নেই। অথবা তিনি এমন কোন ব্যক্তি যার আকীদা বিশ্বাস বা চিন্তা-পদ্ধতি সম্পর্কে নির্ভযোগ্য আলেমগণ অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। 

আবার এক শ্রেণির পাঠক তো আছেন যাদের ইসলাম সম্পর্কিত যাবতীয় পড়াশোনার উতস হচ্ছে ওরিয়েন্টালিস্টদের রচনা। যে সকল ইহুদী খৃষ্টান ইসলাম সম্পর্কে ‘গবেষণা’ করে ইংরেজিতে বইপত্র লিখেছেন তাদের বই-ই তাদের প্রথম পছন্দ। অথচ মুসলিম পণ্ডিতগণ বারবার প্রমাণ করেছেন, এই প্রাচ্যবিদদের (ওরিয়েন্টালিস্ট) ইসলাম বিষয়ক অধিকাংশ কাজ পক্ষপাতদুষ্ট ও ভুলতথ্য আশ্রিত। কিছু ক্ষেত্রে ভাষা ও সংস্কৃতির দূরত্বের কারণে তারা ভুল করেছেন। এবং অনেক ক্ষেত্রে শত্রুতা ও বিদ্বেষবশত স্পষ্ট মিথ্যাচার ও ধোঁকার আশ্রয়ও তারা নিয়েছেন। আমাদের বুঝতে হবে, জ্ঞানগত ‘আভিজাত্য’ রক্ষা করতে গিয়ে আমরা মূল বিষয়টাই তো হারিয়ে ফেলছি। বস্তুত ইসলামী পণ্ডিতগণ যে বিপুল পরিমাণ নির্ভরযোগ্য বইপত্র রচনা করেছেন, (এবং যেগুলোর ইংরেজি সংস্করণও রয়েছে), এরপরও ইসলাম বিষয়ে অনির্ভযোগ্য এমনকি অমুসলিমদের বইপত্র পড়তে যাওয়া কিছুতেই ভালো ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নয়।  

৪- বইয়ের তালিকা 

মুসলিমের জীবন হবে অধ্যয়নমুখি। বই সংগ্রহ করা ও নিয়মিত অধ্যয়ন, এটি দৈনিক নিয়মিত কাজের অংশ। বই সংগ্রহ ও পাঠের ক্ষেত্রে উপরের বিষয়গুলো যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ, তাই বইয়ের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য আলেমদের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করাও জরুরী। কী বিষয়ে পাঠ করব? কোন স্তরের বই আমার উপযোগি হবে? কোন লেখকদের বই আমার পড়া উচিত? এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করে একটি তালিকা যদি তৈরি করে রাখতে পারি, তাহলে যখন সময়-সুযোগ হবে,  আমার উপযোগী ও উপকারি বই সংগ্রহ করতে পারব। এক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা তৈরি হবে। যা আমার অধ্যয়নকে করবে নিরাপদ ও অনেক বেশি উপকারি। 

প্রাথমিক পর্যায়ের একজন পাঠকরে উপযোগি হতে পারে এমন কিছু বিষয় ও বইয়ের নাম এখানে পত্রস্থ করছি। ১। পবিত্র কুরআন অনুধাবন ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার জন্য—তাওজিহুল কুরআন (মুফতি তকি উসমানি) কিংবা তাফসিরে উসমানি ২। হাদীস ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার জন্য—মাআরিফুল হাদীস অথবা রিয়াযুস সালেহিন (মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম কৃত অনুবাদ ও ব্যাখ্যা) ৩। আকীদার জন্য – ঈমান সবার আগে (মাওলানা আব্দুল মালেক) ইসলাম একমাত্র জীবন বিধান (মাওলানা মঞ্জুর নোনানি কৃত দ্বীন ও শরীয়তের অনুবাদ, মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন) আকীদার মর্মকথা (মাওঃ সামিরুদ্দিন)  ৪। মাসআলার জন্য—বেহেশতি জেওর ১-৪ খন্ড (মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরি বা মাওলানা আহমদ মায়মুন অনূদিত) অথবা আহকামে যিন্দেগি (মাওঃ হেমায়েত উদ্দিন), হালাল হারাম (মাওঃ খালেদ সাইফুল্লাহ রহমানি) ৫। নবীজির সীরাত জানার জন্য—সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া ও নবীয়ে রহমত, আররাহিকুল মাখতুম কিংবা আসাহহুস সিয়ার। ৬। আত্মশুদ্ধি ও উত্তম আখলাকের জন্য—কসদুস সাবিল (হাকীমুল উম্মত থানভী), উত্তম চরিত্র মুফতি তকি উসমানি।

আর ইসলাম সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণার জন্য নিচের বইগুলোও পাঠ করতে পারি। ইসলাম ও মুসলমানদের পরিচয়, মঞ্জুর নোমানি। দস্তুরে হায়াত বা ইসলামি জীবন পদ্ধতি—আবুল হাসান আলী নদভী। হায়াতুল মুসলিমীন ও তালিমুদ্দিন– হাকীমুল উম্মত থানভী। ইসলাম পরিচয়—ডঃ হামিদুল্লাহ। ইসলামকে জানতে হলে—আবু তাহের মিছবাহ। 

এখানে প্রাথমিকভাবে একটি তালিকা দিয়েছি মাত্র। একে সামনে নিয়ে পাঠক তার অধ্যয়নের যাত্রা শুরু করতে পারেন। বলাবাহুল্য, ব্যক্তির অবস্থাভেদে বই ও বিষয়ের মধ্যে তারতম্য হবে। যেমন কেউ যদি ইতিমধ্যে তাফসিরে উসমানি অধ্যয়ন করে থাকেন তাহলে তার জন্য ‘মাআরিফুল কুরআন’ অধ্যয়ন করা উপযোগি হতে পারে। এজন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে অভিজ্ঞ আলেমদের থেকে পাঠ্য তালিকা সংগ্রহ করা নেয়াই ভালো।

৫- প্রসিদ্ধ বই মানেই আমার জন্য উপকারি নয়!

আমরা দেখেছি, ইসলাম বিষয়ক যে কোন বই সবার জন্য নয়। এখানে বিষয় ও বইয়ের স্তর বিন্যাস আছে। যা রক্ষা জরুরী। কিন্তু অনেক সময় এমন হয়, বাজারে কিছু বই জনপ্রিয়তা লাভ করে। তখন বাছ-বিচার ছাড়া ব্যাপকহারে সেটা মানুষজন পড়তে থাকে। ধরা যাক, নাস্তিকদের অপলাপ ও কুযুক্তি খণ্ডন করে একটি বই রচিত হয়েছে। শাস্ত্রীয় বিচারে বইটি অনেক মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটি যেকোন পাঠকের জন্য নয়। প্রধাণত বইটি নাস্তিকদের উদ্দেশ্যে লেখা। তাছাড়া যে সকল অভিজ্ঞ আলেম ও গবেষক ইসলামের পক্ষে কাজ করেন তারা এ থেকে উপকৃত হবেন। এমনিভাবে (আল্লাহ না করুন) কোন মুসলিমের অন্তরে যদি এজাতীয় কোন বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয় এবং নির্ভরযোগ্য কোন আলেম তাকে বইটি পড়তে বলেন তখনই শুধু তার জন্য পড়া সঙ্গত হবে। এই তিন শ্রেণির বাইরে সাধারণ মুসলিম পাঠক, যিনি নিজের আকীদা বিশ্বাস ও শিক্ষাকে আস্থার সাথে ধারণ করেন তার জন্য কিছুতেই এমন বই পড়া সঙ্গত নয়। বরং ক্ষেত্র বিশেষে এটি ফেতনার কারণ হতে পারে। এই মূলনীতিটি শুধু বই পড়ার ক্ষেত্রে নয়, এ জাতীয় আলোচনা শোনা ও দেখার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। 

৬- বই কিভাবে পড়ব?

বই পাঠের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ের প্রতি যত্নবান হলে বই থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হওয়া সম্ভব। 

–বইটি নিজের হলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেন্সিল দিয়ে মার্ক করে রাখতে পারি। এতে করে  একটি বইয়ের কোন জায়গাগুলো আমার বিশেষ দরকারি, পরবর্তিতে তা একনজরে পেয়ে যাব। ফলে সময় সময় বাঁচবে ও পেরেশানি হবে না। 

–গুরুত্বপূর্ণ কোন বই পড়ার পর মূল দাবী ও পয়েন্টগুলো যদি সংক্ষেপে নোট করতে পারি, তাহলে বইটি আমার আয়ত্ত্বে চলে আসবে। নোট থেকে মূল বিষয়টা যেকোন সময় গ্রহণ করতে পারব।

–কোন বই পাঠ করার পর এর বিষয়বস্তু নিয়ে কারো সাথে আলোচনা করা বেশ উপকারি। সম্ভব হলে এটা করতে পারি। এতেও বইয়ের মূল বিষয়টি মনে থাকবে দীর্ঘদিন। 

–সাধারণত একটি বই একবার পড়ার পর আর পড়া হয় না। কিন্তু কিছু বই থাকে যেগুলো একবার দুইবার পড়ে রেখে দেয়া যায় না। আত্মস্থ করতে বারবার পড়তে হয়। পূর্ববর্তি আলেমগণ কোন কোন কিতাব কয়েকশত বার পড়তেন। এখনো পণ্ডিত ও বিদ্বানগণ একই গ্রন্থ বারবার অধ্যয়ন করে থাকেন। আমাদের পঠিত কিছু বই-ও এমন থাকা চাই যা বারবার আমরা পড়ব। কুরআন হাদীসের পাশাপাশি আকীদা মাসায়েল ও আখলাক বিষয় বই নিয়মিত পড়া কর্তব্য। এতে বইয়ের বিষয়বস্তু ও মর্মবাণি আমার মধ্যে প্রোথিত হবে মজবুতভাবে। 

–দ্বীনি বই পড়ার সময় যদি কোন বিষয় বুঝতে অসুবিধা হয় অথবা খটকা তৈরি হয় তাহলে আমাদের কর্তব্য হল এর সমাধান করা। সমাধানের জন্য দ্বারস্থ হতে হবে নির্ভরযোগ্য আলেমের । খটকা বা অস্পষ্টতা নিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। 

Picture of আনাস চৌধুরী
আনাস চৌধুরী
আনাস চৌধুরীর জন্ম নব্বইয়ের শেষ দিকে, হবিগঞ্জ সদরে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়াতে। পরবর্তিতে দারুল উলুম দেওবন্দেও অধ্যয়ন করেছেন এক বছর। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক, হবিগঞ্জের দারুল ইরশাদ বহুলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। লেখালেখি, অনুবাদ ও দ্বীনি আলোচনাতেও তার অংশগ্রহণ রয়েছে। বাংলা ও আরবীতে অনুবাদ করেছেন বেশ কিছু বই। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রকাশিত হয়েছে।
লেখকের অন্যান্য লেখা

সূচিপত্র

সর্বাধিক পঠিত
উত্তম আখলাক: অনন্য ছয়টি মর্যাদা
ক্রোধ সংবরণ: কেন ও কিভাবে
কুরআনের আলো পেতে যে বিষয়গুলো লাগবেই!
ঈমানের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা
শিশুদের শাসন ও একটি সাংসারিক খুচরো গল্প
ঈমানের প্রাপ্তি ও ফলাফল